এক প্ল্যাটফর্মে ১৩ জেলা ৪৩ সার্কেল ৯৬ থানা

নরসিংদীর এক বাসিন্দা প্রায় এক দশক ধরে দেশের বাইরে কাজ করছেন। বিদেশে থাকার সময়েই এক পরিচিত লোকের কাছে জমি কিনতে তিনি কয়েক দফায় ৯ লাখ টাকা দেন। কিন্তু কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও ওই ব্যক্তি জমি কিনে দেননি, আবার প্রবাসীর টাকাও ফিরিয়ে দেননি। উল্টো দেশে ফিরলে হামলা-মামলার ভয় দেখাতেন প্রবাসীকে।

সম্প্রতি ওই প্রবাসী বিষয়টি নরসিংদী জেলা পুলিশের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তুলে ধরে আইনি প্রতিকার চান। পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে নির্ভয়ে দেশে ফেরার অনুরোধ করা হয়। ওই প্রবাসী দেশে ফিরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

এভাবে ভুক্তভোগী মানুষের কথা শুনতে ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন ১৩টি জেলা, ৪৩টি সার্কেল ও ৯৬ থানা ফেসবুকে উন্মুক্ত করেছে মোট ১৫৩টি পেজ। কোনো বিপদ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেই এই প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে সেবাপ্রত্যাশীরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নিতে পারছেন।

এ প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে সংশ্নিষ্ট এলাকার পুলিশ ইউনিটের ফেসবুক পেজে গিয়ে সমস্যা বা কোনো অভিযোগ সম্পর্কে কমেন্টস বা মেসেজ পাঠালেই ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নাগরিক এসব পেজে গিয়ে অভিযোগের পাশাপাশি ইতিবাচক-নেতিবাচক মন্তব্যও করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই ঢাকা রেঞ্জের সব ইউনিটের পক্ষ থেকে ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। ঢাকায় রেঞ্জ অফিস থেকে এসব পেজে সাধারণ জনগণ কী ধরনের সেবা চাচ্ছেন বা কাঙ্ক্ষিত সময়ের মধ্যে তা না পেলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসছে, তা মনিটর করা হচ্ছে। সংশ্নিষ্ট ইউনিট ইনচার্জের সঙ্গে কথা বলে সর্বশেষ অবস্থায় জানতে চাওয়া হচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে এক ধরনের সেতুবন্ধন তৈরি হচ্ছে।

ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে জনগণের কাছ থেকে মতামত জানার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পুলিশের একাধিক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৮০ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা রেঞ্জ থেকে এর আওতাধীন সব ইউনিটে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়েছে, দাপ্তরিক পেজের প্রোফাইল পিকচারে বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রামের ছবি, কভার পিকচারে ইউনিটের নাম সংবলিত কার্যালয়ের ছবি সন্নিবেশিত করতে হবে। পেজ করতে হবে সংশ্নিষ্ট দপ্তরের নামে। যেসব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা পেজ ব্যক্তির নামে খোলা হয়েছে, সেগুলোর নাম পরিবর্তন করতেও বলা হয়। এসব পেজ পুলিশের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট ও ঢাকা রেঞ্জের ওয়েবসাইটের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে বা যুক্ত থাকতে হবে।

জনগণ যাতে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার শিকার না হন সে লক্ষ্যে ১৫৩টি পেজের শুরুতে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম, কভার ফটোতে ইউনিটের ছবি, পেজের শুরুতে ইউনিটপ্রধানের ছবি, মোবাইল নম্বরসহ পরিচিতি। চলতি বছরের মধ্য আগস্ট থেকে এই উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে এসব পেজে বর্তমানে ৭০ হাজারের কাছাকাছি অনুসারী যুক্ত হয়েছে। এগুলোর লাইক সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি।

ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, এসআই, এএসআই ও কনস্টেবলের সমন্বয়ে উন্মুক্ত ফেসবুক পেজে জনগণের মতামত ও মনোভাব জেনে সেই আলোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আলাদা টিম আছে। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা রেঞ্জের আরেক কর্মকর্তা বলেন, অনেক সময় পুলিশের দু-চারজন অসাধু সদস্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়ালে মাঠ পর্যায়ের কেউ কেউ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চেপে যাওয়ার ও ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফেসবুকে প্ল্যাটফর্ম তৈরি হওয়ায় চেপে যাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে।
 


Recent Comments

Leave Comments

Login first then comment.
Top